ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে বৃষ্টিতে স্বস্তি; বোরো ও পাটচাষে সেচ নির্ভরতা কিছুটা কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২৪ ২৩:২৫:২১
কুড়িগ্রামে বৃষ্টিতে স্বস্তি; বোরো ও পাটচাষে সেচ নির্ভরতা কিছুটা কমেছে কুড়িগ্রামে বৃষ্টিতে স্বস্তি; বোরো ও পাটচাষে সেচ নির্ভরতা কিছুটা কমেছে
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
 
চলমান মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টিপাতে স্বস্তি ফিরেছে কুড়িগ্রামের কৃষকদের মাঝে। বোরো ধান ও পাটচাষে সেচের ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে বলে জানিয়েছেন। এতে করে সম্ভাবনাময় ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
 
কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদী বেষ্টিত চার শতাধিক চরাঞ্চলে বৃষ্টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার কৃষকরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সেচের প্রয়োজন অনেকটাই কমে গেছে।
 
কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এবারের বৃষ্টিপাত কৃষির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সেচের চাপ কম থাকায় কৃষকদের খরচও কমছে। কোথাও সেচের প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।’
 
এদিকে কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ শামীম পারভেজ জানিয়েছেন, জেলায় দৈনিক গড়ে ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ১০ শতাংশ লোডশেডিং হলেও তা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সেচ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়ছে না।
 
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের গোয়াইলপরী চরের কৃষক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘৬ একর জমির মধ্যে ৩ একরে বোরো ধান ও বাকি ৩ একরে পাট আবাদ করেছি। নিয়মিত বৃষ্টির কারণে এখন সেচ দিতে হচ্ছে না। তবে ডিজেলের দাম বাড়ায় ভবিষ্যতে সেচ দিতে হলে খরচ বাড়বে।’
 
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের কৃষক মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, ‘সাধারণত এসময়ে পানির সংকট বেশি থাকে। কিন্তু এবার বৃষ্টির কারণে বোরো ধান ও পাট ভালো অবস্থায় আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।’
 
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে বোরো ধান ও পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ভবিষ্যতে সেচনির্ভর কৃষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ